২২ জানুয়ারি নায়েমে শিক্ষা ক্যাডারের সমাবেশ!

ঘোষিত ৮ম বেতন স্কেলে অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও বেতন ক্রম অবনমনের প্রতিবাদে এবং পদ আপগ্রেডশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বহাল, বৈষম্য নিরসনে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি ২২ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি নায়েম মিলনায়তনে সাধারণ সভা আয়োজন করছে।

এ সভার মাধ্যমে সমিতি সারাদেশের শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের মতামত নিয়ে দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

NAEM
বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি এসব তথ্য জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা ক্যাডারে সুনির্দিষ্ট সংখ্যক পদ ১ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ ক্যাডারের সকল পদের আপগ্রেডেশন করতে হবে। তা না করে বর্তমান পে স্কেলে উল্টো তার অবনমন করা হয়েছে। যা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমিতির দীর্ঘদিনের দাবি, শিক্ষা ক্যাডারের পদসমূহ ২য় ও ১ম গ্রেডে উন্নীতকরণের বিষয়টি পে স্কেলে বিবেচনায় আনা হয়নি। এর আগে শিক্ষা ক্যাডারের ৫ম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকগণ পদোন্নতি পেয়ে ৪র্থ গ্রেডে অধ্যাপক হতেন। এর ৫০% সিলেকশন গ্রেড পেয়ে ৩য় গ্রেডে উন্নীত হতেন। যেখানে বর্তমান পে স্কেলে উচিত ছিল এই বৈষম্য নিরসন করে শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের মধ্য থেকে গ্রেড-১ নিশ্চিত করা। তা না করে উল্টো সিলেকশন গ্রেড বাতিলে অধ্যাপকগণ ৪র্থ গ্রেড হতে অসম্মানজনকভাবে অবসরে যাবেন এবং মর্যাদা ছাড়াও বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের অনুমোদিত ১৯৮৩ সনের এনাম কমিটি ও ১৯৮৭ সনের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃষ্টি না করায় অনার্স-মাস্টার্সে পাঠদানকারী সরকারি কলেজসমূহ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন  হচ্ছে, পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতির সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টি করে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি, সকল যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেড পরিবর্তনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমিতির প্রস্তাবিত দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এর আগেও বার বার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দাবি পূরণের আহবান জানানো হয়।

দাবি আদায়ে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমিতি আগামী শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৬ ঢাকা কলেজ সংলগ্ন নায়েম মিলনায়তনে জরুরি সাধারণ সভার আয়োজন করেছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমিতির দাবিসমূহ: i) ক) প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য ক্যাডারের মতো ৫ম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকগণ পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক পদে ৩য় গ্রেডে বেতন পাবেন এবং ১ জুলাই ২০১৫ হতে কার্যকর হবে, এর সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি।

ii) ক) সমিতির প্রস্তাবিত নায়েমের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা বোর্ডসমূহের চেয়ারম্যান, জেলা সদরের অনার্স/মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষের পদ ১ নং গ্রেডে উন্নীতকরণ।

খ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, নায়েম, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের পদসমূহ, অনার্স/মাস্টার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ পদ, শিক্ষা বোর্ডসমূহের সচিব এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য পদসমূহ ২ নং গ্রেডে উন্নীতকরণ।

গ) ১৯৮৭ সনের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অনার্স/মাস্টার্স এর ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগে দুইজন করে অধ্যাপকের পদ সৃষ্টির কথা বলা আছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি অনার্স/মাস্টার্স বিভাগে ২য় গ্রেডের একজন সিনিয়র অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।

ঘ) স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষার মতো শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগী অধ্যাপকদের বেতনস্কেল ৪র্থ গ্রেডে উন্নীতকরণ।

iii) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ফাইল বন্দী ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির প্রস্তাব অনুমোদন করতে হবে।

১৯৮৭ সনের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত) অনুযায়ী প্রতিটি অনার্স মাস্টার্স বিভাগে ০২ জন অধ্যাপক এর ০১ জনকে ২য় গ্রেডের সিনিয়র অধ্যাপকের পদ মর্যদা উন্নীত করতে হবে।
iv) বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখতে হবে।
v) প্রজাতন্ত্রের অন্য ক্যাডারের মতো সমান সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।