শিক্ষক মারধর করায় বুয়েট ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে!

BUET_LOGO.svg

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে মারধরের ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনককে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতীক দত্ত ও রাতুল নামে আরও দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বুয়েটের শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটি তাদেরকে বহিষ্কার করে। মঙ্গলবার দুপুরে বুয়েট উপাচার্য কালেদা একরাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কার বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাদের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের পর গত ১২ এপ্রিল (রোববার) ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। এ বিষয়ে পরে বুয়েট ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনকের নেতৃত্বে তাকে বিভাগ থেকে ধরে এনে পিটুনি দেন ছাত্রলীগ নেতারা।

এ ঘটনার পর গত ১২ এপ্রিল (রোববার) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ ও ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষক মারধরের পর থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করায় বুয়েটে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসার পর গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই উপাচার্যের বাংলোর সামনে অবস্থান নিয়েছেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ কনক বলেন,’গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে আমাদেরকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করব।’

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় বুয়েটের ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আইনী সহয়তার বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি সমকালকে বলেন,’চারদিন আগেই অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রেহিতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ঢাকার সিএমএম কোর্টে মামলা করা হয়েছে। বুয়েট প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা কাল (বুধবার) উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করব।’