ঢাবির ৬০ শিক্ষক সাড়ে ৪ কোটি টাকার খেলাপী তালিকায়!

৬০ জন সাবেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওনা রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। অর্থ পরিশোধে বেশ কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

dhaka-university-78

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬০ জন সাবেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৭ টাকা ৫০ পয়সা পাওনা রয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাওনা টাকা সুদসহ দ্রুত পরিশোধ করতে ওই শিক্ষকদের বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সুদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে।

গতকাল রোববার ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনাদার শিক্ষকদের নামের তালিকা ও টাকার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে আছেন। ছুটির মেয়াদ পার হলেও আর কাজে যোগদান না করায় কয়েকজনকে চাকরির পরিসমাপ্তি করা হয়েছে। আবার এদের কয়েকজন পদত্যাগও করেছেন। কিন্তু তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য অর্থ এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেননি তারা।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদসহ পাওনা অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের জন্য ওই শিক্ষকদের সম্প্রতি আরও একবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাওয়া অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সুদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষক খেলাপির তালিকায় রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ। খেলাপী তালিকায় এই বিভাগের ৫ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। ইংরেজি ও রসায়ন বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ৪ জন করে শিক্ষকের নাম এই তালিকায় রয়েছে।

এতে জানানো হয়েছে, এককভাবে বড় খেলাপীর শীর্ষে আছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান; তার কাছ থেকে ৩৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪ টাকা পাওনা রয়েছে। এই বিভাগের আর কোনো শিক্ষকের নাম এই তালিকায় নেই। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক প্রভাষক শেখ মোহাম্মদ আলী। তার কাছ থেকে ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ১৮২ টাকা পাওনা রয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শায়লা হামিদের কাছ থেকে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২১ টাকা, সহকারী অধ্যাপক ফায়েজা সুলতানার কাছ থেকে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৫২৮ টাকা ও মন্ময় জাফরের কাছ থেকে ৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৬৮ টাকা এবং প্রভাষক সুধীর শ্যমুয়েল চৌধুরীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৮ টাকা পাওনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মইনুল হোসেন ভূইয়ার কাছ থেকে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৭ টাকা, মো. কামরুজ্জামানের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭০ টাকা, লুনা নাসরীন রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার ৫২৩ টাকা ও প্রভাষক মো. জসিম উদ্দিনের কাছে থেকে পাওনা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬১০ টাকা।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মো. নাজমুল হুদার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার ১০৬ টাকা, ড. মোহাম্মদ আরিফের কাছ থেকে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকা ও সহকারী অধ্যাপক ড. মরিয়ম নাসরীনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ টাকা পাওনা রয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.মো. আতাউর রহমানের কাছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৩ টাকা ও সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান চৌধুরীর কাছে পাওনা ২ লাখ এক হাজার ৯৬৩ টাকা। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ.টি.এম. আব্দুলাহেল শাফীর কাছে পাওনা ৪ কোটি ১৮ লাখ ৮১৯ টাকা।

ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসফিক উদ্দীনের কাছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৪ টাকা ও প্রভাষক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনের কাছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৭ টাকা পাওনা। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড.এ.কে.এম. জিয়াউর রহমানের কাছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩০৩ টাকা, প্রভাষক মো. আশরাফুজ্জামানের কাছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০৪ টাকা, সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসিমুল নোমানের কাছে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৭ টাকা, সহকারী অধ্যাপক মো. এনামুল করিমের কাছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ২১৪ টাকা এবং প্রভাষক ড. মাহমুদ হোসেনের কাছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৬০ টাকা পাওনা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিকা আজিজের কাছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬০ টাকা, ড. সাজ্জাদ হায়দারের কাছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৯ টাকা ও সহকারী অধ্যাপক ড.মো. সাইফুল ইসলামের কাছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৭০ টাকা, ড. শেখ মো. রিয়াজুল ইসলামের কাছে ৭৮ হাজার ৪৫১ টাকা এবং প্রভাষক ড. জামিল ইউসুফ খানের কাছে ৪১ হাজার ৭৯৩ টাকা, সেকেন্দার চৌধুরীর কাছে ১৯ হাজার ১১০ টাকা, আদনান সিরাজ লস্করের কাছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩২০ টাকা, শেখ মোহাম্মদ আলীর কাছে ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ১৮২ টাকা, মো. বজলুর রশীদের কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২২ টাকা ও মো. জহিরুল হকের কাছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৪ টাকা পাওনা।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগমের কাছে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৩১০ টাকা, সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল কাইয়ুমের কাছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০ টাকা এবং প্রভাষক জিয়া সাদিকের কাছে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ টাকা ও শেখ মোহাম্মদ শহিদ উদ্দীন ইস্কান্দারের কাছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা পাওনা।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসরিন ইসলাম খানের কাছে পাওনা ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯১ টাকা। আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদ বিন সাঈদের কাছে পাওনা ১০ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ টাকা। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হানিফ উদ্দিনের কাছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৮২ টাকা পাওনা। একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের কাছে পাওনা ১৪ লাখ ২১ হাজার ১০৩ টাকা, ড. মোহাম্মদ নুরুল হকের কাছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭০ টাকা এবং সহযোগী অধ্যাপক অনুপ চৌধুরীর কাছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৬ টাকা।

এছাড়া ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা এম. সাইফুদ্দীনের কাছে পাওনা ৭ লাখ ২৭ হাজার ৫২৫ টাকা। নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা আজিমের কাছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯৬ টাকা পাওনা। তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জমান ভূঞায়ার কাছে পাওনা ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৬০ টাকা। অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমানের কাছে পাওনা ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২ টাকা। লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ এহসানের কাছে ৯ লাখ চার হাজার ৬৮৯ টাক পাওনা। নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া শারমিনের কাছে পাওনা ১০ লাখ ১০ হাজার ৯৪১ টাকা। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহেদ আনোয়ারের কাছে পাওনা ৮ লাখ ৩০ হাজার ২১২ টাকা। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাইম বিল্লাহায়ের কাছে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩ টাকা পাওনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুজার কবিরের কাছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৯৪ টাকা ও মো. আমিনুল ইসলাম মল্লিকের কাছে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৭ টাকা এবং প্রভাষক মো. নজরুলের ইসলামের কাছে ৪ লাখ ২২ হাজার ১৫২ টাকা পাওনা। গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী আমিনুর রহমানের কাছে পাওনা ১০ লাখ ১৭২ টাকা। অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার মো. ইসতিয়াকের কাছে পাওনা ১৩ লাখ দুই হাজার ৯৮৫ টাকা। আইন বিভাগের প্রভাষক তানজিম আফরোজের কাছে পাওনা ১০ লাখ ২৩ হাজার ৩৫২ টাকা। তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মু. গোলাম মোর্শেদের কাছে পাওনা ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৩০ টাকা। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হেদায়েত উল্লাহ চৌধুরীর কাছে পাওনা ৪৬ হাজার ১৫ টাকা। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদা শায়লা বানুর কাছে পাওনা ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ টাকা। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুকের কাছে পাওনা ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on pocket

এরকম আরও নিউজ

আলোচনায় অংশগ্রহণ করুন